চাকুরি না করেও বেতন গ্রহণ করছেন দীর্ঘদিন ধরে । দেখার কেউ নেই
নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে চাকুরি না করেও দশ বছর যাবত সরকারি বেতন ভাতা গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরও বলছেন ২০০৭ সালের পর ওই ডাক্তারের কোনই তথ্য নেই তাদের কাছে। প্রথম শ্রেণীর অফিসার হওয়াই অনায়াশেই প্রতি মাসে গ্রহণ করছেন বেতন ভাতাদি। তবে তার পরিবার বলছেন তিনি অসুস্থ্য হওয়ায় নিয়মিত অফিস করতে পারেন না।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার মেডিকেল অফিসার ডা: আবু তোরাব সাঈদ আহম্মদ সিদ্দিকী। ১৮ মার্চ ২০০১ সালে তিনি এ পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি ১৭ জুলাই ২০০২ সালে ডেপুটেশনে যান ঢাকাস্থ আজিমপুরে মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে। ১৪ আগষ্ট ২০০৩ সালে তাঁকে জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউট এম,এস (কার্ডিওথোরাসিক সার্জারী) কোর্সে অধ্যায়নের জন্য ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। তবে কতদিনের জন্য তাকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে তা উল্লেখ নেই ওই ছাড়পত্রে। এমনকি ছারপত্রে উল্লেখিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপনটিও নথিতে নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। সর্বশেষ ০৯ এপ্রিল ২০০৭ সালে ডা: আবু তোরাব সাঈদ আহম্মদ সিদ্দিকীকে এম,এস (কার্ডিওথোরাসিক সার্জারী) কোর্সের জন্য ১ জানুয়ারী ২০০৭ থেকে ২ বছর ৬ মাস মেয়াদে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নের নিমিত্তে প্রেষনাদেশ মঞ্জুর করা হয়। পরবর্তীতে কোর্স সমাপ্তির পত্র বা যোগদানপত্র কোনটিই পাননা সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তবে প্রথম শ্রেণীর অফিসার হওয়ায় বেতন সিটে নিজের স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতি মাসেয় এ পদের বিপরীতে গ্রহণ করছেন বেতন ভাতাদি।
মহাদেবপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তোফায়েল আহম্মেদ জানান, যে উপজেলাতে ৮টির অধিক ইউনিয়ন রয়েছে সেখানে সরকার পরিবার পরিকল্পনা, মেডিক্যাল অফিসারের ২টি পদ সৃষ্টি করেছেন। মহাদেবপুর উপজেলায় ১০ ইউনিয়ন হওয়ায় এখানেও রয়েছে মেডিক্যাল অফিসারের ২টি পদ। একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন দপ্তরটি।
নওগাঁ জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক বলেন, এ বিষয়টি নজরে এসেছে। ২০০৭ সালে ওই মেডিক্যাল অফিসার ১৮ মাসের জন্য ডেপুটেশনে গেলেও তিনি আর কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বা ২০০৭ সালের পরে তার বিষয়ে কোনই তথ্য নেই এই দপ্তরে।
ডা: আবু তোরাব সাঈদ আহম্মদ সিদ্দিকীর সাথে কথা বলতে চাইলে তার স্ত্রী মোবাইল ফোন জানান, তিনি একজন ব্রেণ টিউমারের রোগী তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব না। সংবাদ পত্রে উপর লেভেলে তার লোক বসে রয়েছে তাই তাকে আর বিরক্ত করতে নিশেধ করেন।

কোন মন্তব্য নেই